মেডিকেল প্রস্তুতি এবং প্রশ্নোত্তর


মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার নমুনা OMR
   ডাউনলোড

মেডিকেল ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীদের মনের কিছু প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কয়বার অংশ গ্রহণ করা যায়? 

উত্তর: নতুন নিয়ম অনুসারে ২ বার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করা যায়। পূর্বে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় পর পর ৩ বার অংশ গ্রহণ করা যেতো।

প্রশ্ন: ২য় বার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্যে কোন মার্কস কাটা হয় কিনা?

উত্তর: ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় পূর্ববর্তী বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের সর্বমোট (Aggregated) নম্বর (এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ এর ১৫ গুণ + এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ এর ২৫ গুণ + ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর) থেকে ৫ (পাঁচ) নম্বর কর্তন করে এবং পূর্ববর্তী বৎসরের সরকারি মেডিকেল বা ডেন্টাল কলেজ/ইউনিট এ ভর্তিকৃত ছাত্র/ছাত্রীদের ক্ষেত্রে মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে ৭.৫ (সাত দশমিক পাঁচ) নম্বর কর্তন করে মেধা তালিকা তৈরি করা হবে। লিখিত পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তর প্রদানের জন্য ০.২৫ নম্বর কর্তন করা হবে এবং লিখিত পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেতে হবে।

লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের কম নম্বর প্রাপ্তরা অকৃতকার্য বলে গন্য হবেন। শুধুমাত্র কৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের মেধাতালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে।


প্রশ্ন: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ৪র্থ বিষয়ের মার্কস যোগ করা হয় কি ?

উত্তর: অবশ্যই ৪র্থ বিষয়ের মার্কস যোগ করা হয়। তবে ৪র্থ বিষয়ের ৪০% মার্কস বাদ দিয়ে বাকী মার্কস, সর্বমোট মার্কসের সাথে যোগ করে GPA হিসেব করা হয়। এসএসসি ও এইচএসসি'র GPA কে যথাক্রমে ১৫ ও ২৫ দিয়ে গুণ করে উভয়ের যোগফল সরাসরি ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত মার্কসের সাথে যোগ হয়।


প্রশ্নঃ একজন ভর্তিচ্ছু কোন্ কোন্ পাঠ্য বই follow করবে ? 

উত্তর: অতীতের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার আলোকে আমার মতে নিলিখিত বইগুলোর কমপক্ষে ২টি করে বই follow করলে ভর্তিচ্ছুরা বেশী উপকৃত হবে।

প্রাণিবিজ্ঞান:

  • ১. অধ্যাপক গাজী আজমল
  • ২. ড. মোঃ আব্দুল আলীম
  • ৩. ড. নূর-ই-পারভীন খানম
উদ্ভিদবিজ্ঞান:
  • ১. ড. আবুল হাসান
  • ২. অধ্যাপক গাজী আজমল
  • ৩. ড. মোঃ আব্দুল আলীম
পদার্থবিজ্ঞান (১ম+২য়):
  • ১. ড. আমির হোসেন খান
  • ২. ড. শাহজাহান তপন
  • ৩. ড. তফাজ্জল হোসেন
রসায়ন (১ম+২য়):
  • ১. ড. সরোজ কাস্তি সিংহ হাজারী
  • ২. ড. গাজী মোঃ আহসানুল কবীর
  • ৩. অধ্যাপক সঞ্জিত কুমার গুহ
English:
  • PC Das Grammar
সাধারণ জ্ঞান:
  • Knowledge Drive BCS Guide 
  • দৈনিক পত্রিকা

প্রশ্নঃ পাঠ্যবইগুলো কিভাবে পড়লে বেশি উপকৃত হবো, বলবেন কি?
উত্তর:
একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ: উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর ভর্তি প্রস্তুতির শুরু থেকে বিভিন্ন বিষয়ের বইগুলো দাগিয়ে পড়ুন। এবং যেখানে মনে হয় ভর্তি পরীক্ষায় আসার মত বিষয়গুলো নোট খাতায় নোট করে নিন। বিষয়ভিত্তিক নোট খাতা একবারে শুরু থেকেই থাকা চাই। অন্যের নোট নয় বরং নিজের মত করে নিজের হাতে নোট করুন। দেখবেন সাফল্য আপনার জন্য অপেক্ষা করছে ইনশাআল্লাহ। সবকিছু নোট করার প্রয়োজন নেই। বেছে বেছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নোট করুন ও সর্বদা সাথে রাখুন এবং বারবার দেখুন। Repetition is the secret of learning. (অর্থাৎ বারবার পড়াটাই হলো জ্ঞান অর্জনের মূল রহস্য।)

প্রশ্ন: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নের একাধিক উত্তর থাকে কী?
উত্তর: না। Single Answer (কখনো একাধিক উত্তর তাকে না ।)

প্রশ্নঃ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ১ ঘন্টা সময়ের মধ্যে ১০০টি প্রশ্নের দ্রুত সঠিক উত্তর দানের উপায় কি ? Negative Marking এর ঝুঁকি থেকে বাঁচার উপায় কি?
উত্তর:
প্রথম ধাপ: প্রশ্নপত্র উত্তরপত্র পাওয়ার পর উত্তরপত্রের নির্ধারিত স্থানগুলো বা বৃত্তগুলো ঠান্ডা মাথায় পূরণ করুন। অতঃপর প্রশ্নপত্র নিয়ে প্রথম আধা ঘণ্টায় অতি সহজ প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে দিন। এক্ষেত্রে ১নং প্রশ্ন থেকে পড়ে পড়ে সহজ ও নিশ্চিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে এগিয়ে যান। চেষ্টা করুন প্রথম আধা ঘণ্টায় ১০০টি প্রশ্নের শেষ পর্যন্ত পৌঁছে সব সহজ প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে। এরপর দ্রুত গুণে দেখুন কয়টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। দেখবেন প্রায় ৬০-৭০ অথবা ৫০-৬০টি প্রশ্নের উত্তর আপনি দিয়ে দিয়েছেন।

দ্বিতীয় ধাপ: অতঃপর বাকী অর্ধেক সময়ে তুলনামূলকভাবে কঠিন প্রশ্নগুলোর উত্তর একটু ভেবে-চিন্তে দিতে থাকুন। তবে মনে রাখতে হবে ৮০টির মত প্রশ্নের correct answer নিশ্চিতভাবে দিয়ে থাকলে যে কোনো একটি মেডিকেল কলেজে ভর্তি অনেকটা নিশ্চিত। আন্দাজে আন্দাজে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে ভুলের কারণে প্রতিটি প্রশ্নের জন্যে ঐ প্রশ্নের ১মার্ক সহ আরো অতিরিক্ত ০.২৫ মার্ক কাটতে থাকবে অর্থাৎ একটি প্রশ্নের ভুলের জন্যে আপনার ১.২৫ মার্ক কাটা যাবে। তাই double A+ (SSC + HSC) প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের বেলায় ৮০-৯০টি correct উত্তর হয়ে গেলে খুবই ভেবে-চিন্তে বাকী ২০-১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আন্দাজে ভুল উত্তর দেয়ার চেয়ে উত্তর না দেয়াই উত্তম। তুলনামূলকভাবে কম GPA ধারী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে শুদ্ধভাবে ৮০-৯০টি correct উত্তর দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। 

কেউ যদি নিশ্চিতভাবে ১০০টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারে তবে তার অবশ্যই ১০০টি প্রশ্নের উত্তর দেয়াই উচিত। একটা কথা মনে রাখতে হবে ভর্তি পরীক্ষায় কমপক্ষে ৪০ মার্কস না পেলে এমনকি কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজেও ভর্তি হবার সুযোগ নেই। তাই ডাক্তার হবার খুব ইচ্ছে থাকলে পরীক্ষার সময়টার সুন্দর সদ্ব্যবহার করতে হবে।

Negative marking এর ক্ষেত্রে আন্দাজে উত্তর দেয়ার Policy (Negative মার্ক থেকে বাঁচার উপায়) : প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে যদি একেবারে শেষের দিকে একাধারে ১০-১৫টি প্রশ্ন বাকি থাকে আর সময় থাকে খুবই কম, সেক্ষেত্রে
অবশিষ্ট সবগুলো প্রশ্নের উত্তর আন্দাজে দেওয়া যেতে পারে। তখন Luck favour করলে অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর সঠিক হতে পারে। অর্থাৎ অর্ধেক প্রশ্নোত্তর সঠিক হলেও loss নেই। (কারণ ১০টির মধ্যে ৫টিও সঠিক হলে আপনার ৩.৭৫ থাকবে। তবে মনে রাখতে হবে বিক্ষিপ্তভাবে আন্দাজে উত্তর দিলে সবকয়টাই ভুল হতে পারে বা বেশির ভাগ প্রশ্নের উত্তর ভুল হতে পারে; তাতে বেশি মাইনাস মার্কিং হয়ে নিশ্চিত হয়ে দেয়া প্রশ্নোত্তর থেকেও মার্কস্ কাটা যেতে পারে। এ ধরণের Risk ৯ এর উপরে GPA প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের না নেয়াই উত্তম। বেশি মার্কস পেতে আন্দাজে উত্তর দিতে গিয়ে Negative মার্কের কারণে একজন ভর্তিচ্ছু মেডিক্যালে চান্স পাওয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত হতে পারে। একেবারে চান্স না পাওয়ার চেয়ে যে কোন একটি সরকারি মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া অনেক উত্তম। তাই সাবধান!

একটি সাবধানতা:
গাণিতিক প্রশ্নগুলোর উত্তর সবশেষে দিতে হবে। কারণ প্রথম দিকে গাণিতিক প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে মাথা গরম হতে থাকে। তাতে প্রশ্নপত্রের শেষের দিকের অনেক সহজ প্রশ্নের উত্তরও ভুল হয়ে যেতে পারে। তাই সাবধান! গাণিতিক প্রশ্নগুলোর উত্তর সবশেষে দিতে হবে।


আরেকটি সাবধানতাঃ
কোন জটিল প্রশ্ন নিয়ে চিন্তা করতে করতে বেশীক্ষণ সময় নষ্ট করলে পরে দেখা যাবে ৩০/৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতেই অথবা ৪০/৫০টি প্রশ্নের উত্তর দিতেই ১ ঘন্টা সময় শেষ! পরে দেখবেন ৫০, অথবা ৪০টি অথবা ৩০টি সহজ প্রশ্ন আপনি Touch ই করতে পারেননি। পরীক্ষা-কক্ষের বাইরে এসে কপালে হাত দিয়ে বসবেন। কাজেই কোন জটিল প্রশ্ন নিয়ে বারবার চিন্তা করার সুযোগ এখানে নেই।


আরেকটি সাবধানতাঃ
উত্তর পত্রে উত্তরের বৃত্তটি ভরাট করতে গিয়েও অনেক ছাত্র-ছাত্রী অসুবিধার সম্মুখীন হয়। যেমন, একবার ভরাট করে আবার ঘষে, মুছে ইত্যাদি। তাই ভর্তি পরীক্ষার পূর্বেই নিচোল্লেখিত পদ্ধতিতে দ্রুত বৃত্ত ভরাট করার অভ্যাস করে নিন বৃত্ত ভরাট করার সঠিক নিয়ম হলো প্রথমেই বৃত্তটির পরিধির দিক থেকেই ভরাট করা শুরু করে আস্তে আস্তে কেন্দ্রের দিকে ভরাট করুন। তাহলে কখনো পেন্সিলের দাগ বৃত্তের বাইরে যাবার সম্ভাবনা নেই। এবং বৃত্তটি সম্পূর্ণরূপে ভরাট করুন যেন কোন সাদা দাগ না থাকে। সাদা বা ফাঁকা থেকে গেলে, এ উত্তরটি বাতিল হতে পারে। যে মেশিনে এই উত্তরপত্র চেক করা হয় এ মেশিনটির নাম OMR (Optical Mark Reader)। এটি একটি Computerized Machine. ভরাট বৃত্তে আলোর প্রতিফলনের মাধ্যমে এই মেশিনটি সঠিক উত্তর নির্ধারণ করে। অতএব বৃত্তটি সম্পূর্ণরূপে ভরাট করুন। নিচে ছবির মাধ্যমে উত্তরপত্রে উত্তর-বৃত্তটি ভরাট করার সঠিক পদ্ধতি দেখানো হলো।























Post a Comment

0 Comments