গুণগত রসায়ন

 



০১। বিশ্ব প্রকৃতি বিজ্ঞানীদের কাছে কতভাগে বিভক্ত? 

ক. ২ খ. ৩

গ. ৪ ঘ. ৫ 

০২। যে আলোক অংশ অন্য বস্তুকে দৃশ্যমান করে তাকে ক. অবলোহিত রশ্মি   গ. ক ও খ 

খ. দৃশ্যমান আলো   ঘ. কোনটিই নয়


০৩। ১৮৯৭ সালে নিম্নের কোন বিজ্ঞানী ক্যাথোড রশ্মির উপর পরীক্ষাকালে ইলেক্ট্রন আবিষ্কার করেন?

ক. স্যার জে.জে থমসন খ. রাদারফোর্ড

গ. চ্যাডউইক                ঘ. কোনটিই নয়


০৪। পরমাণু মডেল এর জন্য সঠিক নয়-

ক. রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে উপস্থাপিত

খ. বোর পরমাণু মডেল ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে উপস্থাপিত

গ. বোর পরমাণু মডেল ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে উপস্থাপিত 

ঘ. কোয়ান্টাম বলবিদ্যা পরমাণু মডেল ১৯২৪-১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে উপস্থাপিত


০৫। Plum Pudding পরমাণু মডেল উপস্থাপন করেন–ক. থমসন (১৮৯৮)             গ. বোর (১৯১৩)

খ. রাদারফোর্ড (১৯১১)      ঘ. কোনটিই নয়


০৬। Plum - Pudding পরমাণু মডেল নিশ্চিত প্রমাণ লাভের উদ্দেশ্যে কত খ্রিস্টাব্দে আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা করেন?

ক. ১৯১১           খ. ১৯১৩

গ. ১৯২৫            ঘ. ১৯২৭


০৭। আলফা কণা সম্পর্কে সঠিক-

ক. হিলিয়াম পরমাণু হতে ২টি ইলেক্ট্রন বের করলে বেরিয়ে আসে

খ. দ্বিধনাত্মক

গ. একক ধনাত্মক

ঘ. কোনটিই নয়


০৮। আলফা কণার গতির জন্য সঠিক?

ক. 1× 10⁷m/s - 2.5 × 10⁷m/s 

খ. 2 × 10⁷m/s - 3.5 x 10⁷m/s

গ. 3 × 10⁷m/s - 5.5 × 10⁷ m/s

ঘ. কোনটিই নয়


০৯। নিচের কোনটি সঠিক নয়?

ক. আলফা কণাতে প্রোটন ও নিউটন ২টি

খ. আলফা কণার ভর ৪

গ.আলফা কণার ভর ২

ঘ. কোনটিই নয়


১০। রাদারফোর্ডের পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়

ক. তেজস্ক্রিয় মৌল হতে নির্গত আলফা কণা 

খ. ০.০০৪ সে.মি. পাতলা সোনার পাত

গ জিংক সালফাইড আবরণযুক্ত গোলাকার পর্দা 

ঘ. কপার সালফাইড আবরণযুক্ত পর্দা


১১। নিচের কোনটি আলফা কণা সম্পর্কে সঠিক নয়? ক. জিংক সালফাইড আবরণীর ওপর পতিত আলফা কণার আলোকচ্ছটা সৃষ্টি করে

খ. ৯৯% আলফা কণা ভেদ করে চলে যায় 

গ. কয়েকটা আলফা কণা বেঁকে চলে যায়

ঘ. কোনটিই নয়


১২। কতটি আলফা কণা বিপরীত দিকে ফিরে আসে?

ক. ২০০০০ এ ১টি  খ. ২০০০ এ ১ টি

গ. ২০০০০০ এ ১টি ঘ. কোনটিই নয়


১৩। আলফা কণার জন্য সঠিক নয়-

ক. ভর ইলেক্ট্রনের চেয়ে ৭০০০ গুণ কম

খ. ভর ইলেক্ট্রনের চেয়ে ৭০০০ গুণ বেশি

গ. দ্বিধনাত্মক চার্জযুক্ত

ঘ. কোনটিই নয়


১৪। রাদারফোর্ডের পরীক্ষায় পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে-

ক. ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ গুণ বড়

খ. ১ হাজার থেকে ১ লক্ষ গুণ বড়

গ. ১ হাজার থেকে ১০০০০ গুণ বড়

ঘ. কোনটিই নয়


১৫। নিচের কোনটি রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল এর জন্য সঠিক নয়— 

ক. পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে ধনাতক চার্জযুক্ত ভারী বস্তুকে নিউক্লিয়াস বলে

খ. পরমাণু বিদ্যুৎ নিরপেক্ষ 

গ.  বৈদ্যুতিক আকর্ষণজনিত কেন্দ্রমুখী বল ও আবর্তনশীল ইলেক্ট্রনের কেন্দ্ৰবহির্মুখী বল পরস্পর সমান

ঘ. কোনটিই নয়।


১৬। নিচের কোনটি রাদারফোর্ড মডেলের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ভূল 

ক. গ্রহগুলো চার্জনিরপেক্ষ কিন্তু ইলেক্ট্রন চার্জযুক্ত

খ. ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বানুযায়ী পরমাণুর অস্তিত্বের বিলীন ঘটবে

গ. হাইড্রোজেন বর্ণালীর ব্যাখ্যা দিতে পারে

ঘ. আবর্তনশীল ইলেক্ট্রনের কক্ষপথের আকার-আকৃতি ও একাধিক ইলেক্ট্রনযুক্ত পরমাণুর ঘূর্ণন এর কোন ব্যাখ্যা দিতে পারে না


১৭। বোর পরমাণু মডেল প্রতিষ্ঠিত হয় –

ক. রাদারফোর্ড মডেলের ভূল অনুসারে

খ. রাদারফোর্ড মডেলের স্বীকার্যতা অনুসারে

গ. ক ও খ

ঘ. কোনটিই নয়


১৮। নিচের কোনটির উপর ভিত্তি করে বোর পরমাণু মডেল উপস্থাপিত?

ক. ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বভিত্তিক ত্রুটি

খ. ইলেক্ট্রনের কক্ষপথের আকারভিত্তিক ত্রুটি

গ. হাইড্রোজেন পরমাণুর বর্ণালি সৃষ্টির যথাযথ ব্যাখ্যা

ঘ. কোনটিই নয়


১৯।  নিচের কোনটি ইলেক্ট্রনের ঘূর্ণনের জন্য সঠিক?

ক. যে কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান তাকে স্থির কক্ষপথ, শক্তিস্তর বা অরবিট বলা হয়

খ. কক্ষপথে অবস্থানকালীন শক্তি বিকিরণ করে

গ. কক্ষপথে অবস্থানকালীন শক্তি শোষণ করে

ঘ. শক্তিস্তর সমূহ ঘূর্ণায়মান


২০। প্রতিটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে আবর্তনরত ইলেক্ট্রনের কৌণিক বেগ

ক. h/2π এর পূর্ণ গুণিতক

খ. h/2π এর অখণ্ড গুণিতক

গ. h/2π এর ভগ্নাংশ গুণিতক

ঘ. কোনটিই নয়


২১।  শক্তির শোষণ বা বিকিরণ ও বর্ণালি সৃষ্টির ধারণার জন্য সঠিক কোনটি?

ক. নিম্ন শক্তিস্তর হতে উচ্চ শক্তিস্তরে গেলে ইলেক্ট্রন শক্তি শোষণ করে

খ. নিম্ন শক্তিস্তর হতে উচ্চ শক্তিস্তরে গেলে ইলেক্ট্রন শক্তি বিকিরণ করে 

গ. উচ্চ শক্তিস্তর হতে নিম্ন শক্তিস্তরে গেলে ইলেক্ট্রন শক্তি বিকিরণ করে

ঘ. কোনটিই নয়


২২। নিচের কোনটি বোর পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা?


ক. H ও একক ইলেক্ট্রনবিশিষ্ট আয়নের বর্ণালির ব্যাখ্যা করতে পারে না

খ. বর্ণালি রেখার উৎপত্তি ব্যাখ্যা করতে পারে না 

গ. ত্রিমাত্রিক কক্ষপথ ও একই সময়ে ইলেক্ট্রনের অবস্থান ও ভরবেগ নির্ণয় করা যায় না

ঘ. কোনটিই নয়


২৩। বোর পরমাণু মডেলে আবর্তনশীল ইলেক্ট্রনের কক্ষপথ –

ক. দ্বিমাত্রিক সমতলীয়      গ. ক ও খ

খ. একমাত্রিক সমতলীয়    ঘ. কোনটিই নয়


২৪।  নিচের কোন বিজ্ঞানী প্রমাণ করেন যে, সব ধরনের দৃশ্য - অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয়।

(a) বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল (b) বিজ্ঞানী প্লাংক

(c) বিজ্ঞানী আইনস্টাইন (d) বিজ্ঞানী নীলস বোর

ব্যাখ্যা:

তড়িৎ চুম্বকীয় রশ্মিঃ বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল (Maxwell) প্রমাণ করেন যে, সব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বকক্ষেত্রের প্রভাবে হয়। এজন্য সব ধরনের আলোককে একত্রে তড়িৎ বা চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়।

জেনে রাখা ভালো:

  • বিজ্ঞানী নীলস বোর : পরমাণু মডেল আবিষ্কার করেন।
  • বিজ্ঞানী প্লাংক : কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রদান করেন।
  • বিজ্ঞানী আইনস্টাইন: আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রদান করেন।


২৫। ইলেকট্রন বিন্যাসের প্রয়োগ কোনটি?

(a) মৌলের যোজ্যতা নির্ণয় করা

(b) পর্যায় সারণিতে মৌলের অবস্থান নির্ণয় করা

(c) মৌলের সক্রিয়তা নির্ণয় করা

(d) উপরের সবগুলোই

ব্যাখ্যা:

ইলেকট্রন বিন্যাসের প্রয়োগ:

১. মৌলের যোজ্যতা নির্ণয় করা যায়:

২. পর্যায় সারণিতে মৌলের অবস্থান নির্ণয় করা যায়:

৩. মৌলের সক্রিয়তা নির্ণয় করা যায়।


২৬। কোন অঞ্চলটি 10nm - 380nm পর্যন্ত বিস্তৃত?

(a) দৃশ্যমান অঞ্চল।

(b) অবলোহিত অঞ্চল

(c) অতিবেগুণী রশ্মির অঞ্চল 

(d) গামা রশ্মির অঞ্চল

ব্যাখ্যা: অতিবেগুণী রশ্মি (UV) অঞ্চল: এ অঞ্চলটি 10nm-380nm তরঙ্গদৈর্ঘ্য পর্যন্ত বিস্তৃত । এর বিভিন্ন তরঙ্গ পরিসরে নিম্নোক্ত কাজে ব্যবহৃত হয়। 

(i) 30nm- 200nm তরঙ্গদৈর্ঘ্য: UV-ফটোইলেকট্রন স্পেকট্রোস্কোপি,

(ii) 230nm - 365 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্য: UV-ID, লেবেল ট্র্যাকিংরূপে, 

(iii) 230nm - 380nm তরঙ্গদৈর্ঘ্য: অপটিকেল সেন্সররূপে,

(iv) 240nm- 280nm তরঙ্গদৈর্ঘ্য: জীবাণুনাশক কাজে,

(v) 200nm - 400nm তরঙ্গদৈর্ঘ্য: ড্রাগ (drug) সণাক্তকরণ, 

(vi) 270nm-360nm তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রোটিন অ্যানাইলাইসিস কাজে,

(vii) 280nm - 400nm তরঙ্গদৈর্ঘ্য: কোষ বা cell এর মেডিকেল ইমেজিং, 

(viii) 300nm-320nm তরঙ্গদৈর্ঘ্য চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি।

 লক্ষ করুন: তরঙ্গ দৈর্ঘ্যভেদে অতিবেগুনী রশ্মির ব্যবহার মনে না রাখতে পারলেও শুধু অতিবেগুনী রশ্মির ব্যবহারগুলো অবশ্যই মনে রাখতে হবে। কারণ অতিবেগুনী রশ্মি চিকিৎসা বিজ্ঞানে বহুল ব্যবহৃত হয়।


২৭। নিচের কোনটি মাইক্রোওয়েভ অঞ্চল এর ব্যবহার?

(a) ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায়

(b) Wi-Fi, মোবাইল ফোন সিগনাল ও মাইক্রো ওভেনে ব্যবহৃত হয়

(c) MRI যন্ত্রে ।

(d) অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে যোগাযোগ


২৮। পদার্থের গঠন অনুসারে বর্ণালীর প্রকারভেদ নয় কোনটি?

(a) রেখা বর্ণালী         (c) নিরবচ্ছিন্ন বর্ণালী 

(b) গুচ্ছ বর্ণালী         (d) অনুজ্জ্বল বর্ণালী

ব্যাখ্যা:

বর্ণালীর শ্রেণিবিভাগ: বর্ণালিকে বিভিন্নভাবে শ্রেণিবিভাগ করা যায়। বৈশিষ্ট্য অনুসারে বর্ণালি দুই প্রকার। যাথা

১. বিকিরণ বা উজ্জ্বল বর্ণালী (emission/light spectra) উজ্জ্বল বর্ণ 

২. শোষণ বা অনুজ্জ্বল বর্ণালী (absorption/dark spectra) কালো বর্ণ

আবার পদার্থের গঠন অনুসারে বর্ণালি ৩ প্রকার

১. পারমাণবিক বা রেখা বর্ণালী (atomic/line spectra 

২. আণবিক বা গুচ্ছ বর্ণালী (molecular/band spectra)

৩. নিরবিচ্ছিন্ন বর্ণালী (continuous spectra)


২৯। নিচের কোন পাউডার মৌলসমূহের নাছোড় রেখা বিকিরণ করে?

(a) ট্যালকম পাউডার  (c) UR পাউডার

(b) RU পাউডার          (d) Ca পাউডার

ব্যাখ্যা:

নাছোড় রেখা: কোন নমুনার বর্ণাফল রেকর্ড করার সময় নমুনার মধ্যে ঐ মৌলের মাত্রা কমাতে থাকলে বর্ণাফল থেকে রেখা সমূক উধাও হয়ে যেতে থাকে। তবে কয়েকটি রেখা নাছোড় বান্দার মত বর্ণালীতে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। এদেরকে নাছোড় বা স্থায়ী রেখা (Persistent Lines) বলা হয়। RU পাউডার নামে বাজারে একধরনের আদর্শ পাউডার কিনতে পাওয়া যায় যার মধ্যে কমপক্ষে পঞ্চাশটি মৌলিক পদার্থ এমন পরিমাণে মিশ্রিত থাকে যেন উত্তেজিত করলে ঐ পাউডার শুধুমাত্র মৌলসমূহের নাছোড় রেখা বিকিরণ করে। এরূপ পাউডারের বর্ণালীকে আদর্শ বর্ণালী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

জেনে রাখা ভালো: RU পাউডার প্রকৃতপক্ষে তেজস্ক্রিয় মৌল Ruthenium এর বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত পাউডার।


৩০। আসল নোটে কোন ধরনের আলোকিয় ঘটনা পরিলক্ষিত হয়?

(a) প্রতিপ্রভা         (c) প্রতিসরণ

(b) ব্যাতিচার         (d) অপাবর্তন

ব্যাখ্যা:

UV রশ্মি দ্বারা জালনোট শনাক্তকরণের মূলনীতি: UV রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য Y= 10 nm থেকে 380 nm হয়। তবে 230 nm -- 375 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি অপটিকেল সেন্সররূপে আসল-নকল কারেন্সি নোট ডিটেক্টর মেসিনে ব্যবহৃত হয়। কারেন্সি নোটে Security device রূপে অপট্রিকেল সেন্সর ফসফোর (phosphor) নামক বিশেষ রাসায়নিক পদর্থি ব্যবহৃত হয়। UV রশ্মি বিকিরণ বর্ণযুক্ত আলো হওয়ায় একে প্রতিপ্রভা বা অনুপ্রভা (fluorescence) বলে। এ নীতির ওপর ভিত্তি করেই জাল টাকা/পাসপোর্ট শনাক্তকরণে UV রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

৩১। মেডিকেল IR প্রতিচ্ছবিকে কী বলে?

(a) Thermal-IR  (c) far-IR

(b) near-IR         (d) middle-IR

 ব্যাখ্যা:

Thermal-IR: মেডিকেল IR-imaging বা IR- প্রতিচ্ছবিকে এ দেহে IR এর পরিসরের Thermal-IR বলে। এটি মানব দেহের বিকিরিত [R রশ্মি পরিমাপে ব্যবহৃত হয় এবং একে মেডিকেল IR থার্মোগ্রাফ বলে। IR থার্মোগ্রাফিক ক্যামেরায় ব্যবহৃত IR-ডিটেক্টর সেন্সর (sensor) দেহের বিকিরিত IR-রশ্মির পরিমাপক অতি সূক্ষ্ম শারীর বৃত্তীয় তাপীয় পরিবর্তনসহ দেহের প্রতিচ্ছবি বা ইমেজ (image) সৃষ্টি করে; একে IR থার্মোগ্রাফির উৎস বলে।

৩২। Frozen Shoulder এর চিকিৎসায় কোন প্রকার রশ্মির প্রয়োগ করে ফিজিওথেরাপি দেয়া হয়?

(a) far-IR                (c) middle-IR

(b) DOT                  (d) near-IR

উত্তর: (a) Far-IR

ব্যাখ্যা:

far-IR এর ব্যবহার: Low emission পদ্ধতিতে far-IR রশ্মি ত্বকের নিচের টিস্যুকে মৃদু উত্তপ্ত করে। তখন ঐ স্থানে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, দেহ কোষ ও মাংসপেশি স্বাভাবিক হয়, জয়েন্টের সচলতা বাড়ে, স্নায়ু-বিন্যাস স্বাভাবিক হয়ে ব্যথা-বেদনার উপশম ঘটে। ঘাড়ের মাংসপেশি শক্ত হওয়া বা Frozen Shoulder এর জনপ্রিয় চিকিৎসা পদ্ধতি হলো ‘ফিজিওথেরাপি’, এতে far-IR রশ্মির প্রয়োগ করে ম্যাসেজ করা হয়।

৩৩। MRI এর ব্যবহারক্ষেত্র নয় কোনটি?

(a) মস্তিষ্ক ও মেরুমজ্জার টিউমার শনাক্তকরণ 

(b) আঘাতজনিত অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ নির্ণয়ে 

(c) রক্ত নালিকা সংক্রান্ত রোগ জীবাণু সংক্রমণজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে

(d) রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয়

ব্যাখ্যা:

MRI এর ব্যবহার: চিকিৎসাক্ষেত্রে নিম্নোক্ত সমস্যার ক্ষেত্রে MRI বা Magnetic Resonance Imaging (ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং) ব্যবহৃত হয়।

১। বিভিন্ন তন্ত্রের টিস্যুর (মস্তিষ্ক, মেরুমজ্জা) টিউমার

২। আঘাতজনিত অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ

৩। রক্ত নালিকা সংক্রান্ত রোগ

৪। জীবাণু সংক্রমণজনিত সমস্যা

৫। হাইড্রো সেফালাস বা মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ।

এ MRI পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য 2003 সালে Paul C. Lauterbur ও Peter Mansfield চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান। উল্লেখ্য যে, একটি মস্তিষ্কের 20-30 টি স্ক্যান করতে মাত্র 10 মিনিট সময় লাগে। মস্তিষ্কের টিউমার নির্ণয়ে MRI সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়।


৩৪। শিখা পরীক্ষায় কোবাল্ট গ্লাসে Na এর বর্ণ কীরূপ?

(a) বর্ণহীন         (c) সবুজ

(b) লাল            (d)-সোনালী হলুদ


৩৫। দ্রাব্যতা নিচের কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করেনা?

(a) দ্রবের প্রকৃতি

(b) দ্রাবকের প্রকৃতি

(c) তাপমাত্রা ও চাপ

(d) দ্রবণের ঘনমাত্রা

 ব্যাখ্যা:

দ্রাব্যতার নির্ভরশীলতা: দ্রাব্যতা কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যথা-ক) দ্রবের প্রকৃতি খ) দ্রাবকের প্রকৃতি গ) চাপ ঘ) তাপমাত্রা

 • দ্রবের প্রকৃতি: একই দ্রাবকে ভিন্ন ভিন্ন দ্রবের দ্রাব্যতা ভিন্ন ভিন্ন। অর্থাৎ ‘Ca(OH)2 অপেক্ষা NaOH এর দ্রাব্যতা বেশি।

• দ্রাবকের প্রকৃতি: দ্রাবকের প্রকৃতির উপরও দ্রাব্যতা নির্ভর করে। যেমন দেখা যায় যে, ইথানল অপেক্ষা পানিতে NaOH এর দ্রাব্যতা অনেক বেশি।

• চাপ: চাপ বৃদ্ধি করলে গ্যাসীয় দ্রবের দ্রাব্যতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। 

• তাপমাত্রা: দ্রাব্যতার উপর তাপমাত্রার প্রভাব ব্যাপক এবং বিভিন্নমুখি


৩৬। MnS এর অধঃক্ষেপ এর বর্ণ কীরূপ?

(a) কালো         (c) বেগুনী

(b) সাদা           (d) গোলাপী

৩৭। কোন ধাতুর সালফেট লবণ পানিতে দ্রবণীয় নয়?

(a) Ag                  (c) Pb

(b) Ca                  (d) সবগুলোই

৩৮। ফেরিক আয়ন শনাক্তকরণের জন্য কোনটি দ্রবণটি ব্যবহৃত হয় না?

(a) NH4OH দ্রবণ

(b) পটাশিয়াম ফেরিসায়ানাইড দ্রবণ

(c) পটাশিয়াম পাইরো অ্যান্টিমোনেট দ্রবণ

(d) অ্যামোনিয়াম থায়োসায়ানেট

৩৯।  নেসলার দ্রবণ হলো -

(a) সোডিয়াম টেট্রাআয়োডা মারকিউরেট এর দ্রবণ

(b) পটাসিয়াম টেট্রাআয়োডো মারকিউরেট এর দ্রবণ (c) পটাসিয়াম ট্রাই আয়োডো মারকিউরেট এর দ্রবণ (d) অ্যালুমিনিয়াম ট্রাই আয়োডো মারকিউরেট এর দ্রবণ

৪০। কোন যৌগের জন্য কোন ধরনের বিশোধন পদ্ধতি উপযোগী হবে তা কোনটির উপর নির্ভর করে না?

(a) যৌগের ধর্ম

(b) যৌগের ভৌত অবস্থা

(c) উপস্থিত অপদ্রব্য 

(d) যৌগের প্রকৃতি

ব্যাখ্যা:

বিশোধন পদ্ধতি: কোন যৌগের জন্য কী ধরনের বিশোধন পদ্ধতি ব্যবহার উপযোগী হবে তা নির্ভর করে যৌগের ধর্ম, প্রকৃতি ও ভৌত অবস্থার উপর। যেমন কঠি যৗগের বিশোধনের জন্য:

(১) পরিস্রাবণ (২) কেলাসন (৩) আংশিক কেলাসন (৪) ঊর্ধ্বপাতন (৫) দ্রাবক নিষ্কাশন  (৬) ক্রোম্যাটোগ্রাফি ইত্যাদি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

তরল যৌগের বিশোধনের জন্য:

(১) পাতন (২) আংশিক পাতন (৩) নিম্নচাপ পাতন

(৪) বাষ্প পাতন (৫) সমস্ফুটন পাতন (৬) দ্রাবক নিষ্কাশন ও (৭) রাসায়নিক প্রণালী ব্যবহৃত হয়।

গ্যাসীয় জৈব যৌগের বিশোধনের জন্য:

(১) শোষণ পদ্ধতি (২) তরলীকরণ (৩) পাতন।


৪১। কেলাসন পদ্ধতির ধাপ নয় কোনটি?

(a) নমুনা দ্রবণ প্রস্তুতি    (c) কেলাস পৃথকীকরণ

(b) সম্পৃক্ত দ্রবণ প্রস্তুতি (d) কেলাসের পরিস্রাবণ

ব্যাখ্যা: কেলাসন পদ্ধতি নিম্মোক্ত ধাপে সম্পন্ন করা হয়: (১) উপযুক্ত দ্রাবকে প্রদত্ত নমুনার দ্রবণ প্রস্তুতি,

(২) দ্রবণের পরিস্রাবণ বা ফিল্টারকরণ, 

(৩) সম্পৃক্ত দ্রবণ প্রস্তুতি,

(৪) উত্তপ্ত সম্পৃক্ত দ্রবণকে শীতলকরণে কেলাসন, 

(৫) কেলাস পৃথকীকরণ ও শুষ্ককরণ।


৪২। অবিশুদ্ধ চিনি থেকে বিশুদ্ধ চিনি পৃথক করা হয়

(a) আংশিক পাতন      (c) বাষ্প পাতন

(b) আংশিক কেলাসন (d) নিম্নচাপ পাতন

উত্তর: (b) আংশিক কেলাসন

ব্যাখ্যা:

আংশিক কেলাসন: একই দ্রাবকে বিভিন্ন দ্রাব্যতা বিশিষ্ট দুই বা ততোধিক কঠিন পদার্থের সম্পৃক্ত দ্রবণ থেকে মিশ্রণের উপাদানগুলোর দ্রাব্যতার পার্থক্যের উপর ভিত্তি করে প্রত্যেকটি পদার্থকে কেলাসিত করে পৃথক করার পদ্ধতিকে আংশিক কেলাসন বলে। এ পদ্ধতি প্রধানত যৌগসমূহের দ্রাব্যতার পার্থক্যের উপর নির্ভরশীল। এ পদ্ধতিতে দ্রাবক হিসেবে পানি, অ্যালকোহল, বেনজিন প্রভৃতি ব্যবহৃত হয় এ পদ্ধতিতে অবিশুদ্ধ চিনি থেকে বিশুদ্ধ চিনি পৃথক করা হয়


৪৩। অ্যাজিওট্রপিক মিশ্রণ –

(a) স্থির তাপমাত্রায় ফুটতে থাকে 

(b) স্থির তাপমাত্রায় বিগলিত হয় 

(c) স্থির তাপমাত্রায় কঠিনে পরিণত হয় 

(d) স্থির তাপমাত্রায় ঘনীভূত হয়। 

 ব্যাখ্যা:

অ্যাজিওট্রপিক মিশ্রণ: কখনও কখনও একটি নির্দিষ্ট সংযুক্তির দুটি কঠিন যৌগের মিশ্রণও স্থির তাপমাত্রায় বিগলিত হয়। এ ধরনের মিশ্রণকে সমগলন মিশ্রণ বা ইউকেটিক মিশ্রণ বলে। কখনও কখনও একাধিক তরল যৌগের নির্দিষ্ট সংযুক্তির মিশ্রণও স্থির তাপমাত্রায় ফুটে। এ জাতীয় মিশ্রণকে সমস্ফুটন মিশ্রণ বা অ্যাজিওট্রপিক মিশ্রণ বলে


৪৪। কোন মিশ্র তরুল পদার্থের উপাদানসমূহের স্ফুটনাংক নিম্নের কত ডিগ্রি (°C) এর কম হলে আংশিক পাতন করতে হয়? 

 (a) 40 এর বেশ উপরে 

(b) 50 এর বেশ কম 

(c) 50 এর বেশ উপরে 

(d) 40 এর বেশ কম 

ব্যাখ্যা:

আংশিক পাতন: কোনো মিশ্রণে তরল পদার্থের উপাদানসমূহের স্ফুটনাঙ্কের ব্যবধান 40°C এর বেশি হলে সাধারণ পাতন পদ্ধতিতে এদের পৃথক করা সম্ভব। কিন্তু উপাদানসমূহের স্ফুটনাঙ্কের ব্যবধান 40°C এর কম হলে তখন পাতন ফ্লাস্ক ও শীতকের মাঝখানে 'অংশ কলাম' নামক ‘সাহায্যকারী শীতক’ ব্যবহার করে পাতন প্রক্রিয়ায় মিশ্রণের তরল উপাদানসমূহের পৃথকীকরণ সম্ভব হয়। 'অংশ কলাম' ব্যবহার করে পাতন প্রক্রিয়ায় মিশ্রনের তরল উপাদানকে পৃথক করার পদ্ধতিকে আংশিক পাতন বলে ।


৪৫। ক্রোমাটোগ্রাফির ব্যবহার নয় কোনটি?

(a) জৈব যৌগ পৃথকীকরণ ও বিশোধন 

(b) রাসায়নিক বিক্রিয়া মনিটরিং 

(c) পরিবেশ দূষণে দুষক বস্তু শনাক্তকরণ

(d) বিভিন্ন যৌগের উপাদানের মিশ্রিতকরণ

 ব্যাখ্যা:

ক্রোমাটোগ্রাফির ব্যবহার: আধুনিক যুগে ক্রোমাটোগ্রাফির ব্যবহার বহুবিধ। তন্মধ্যে যে ক'টি উল্লেখযোগ্য সংক্ষেপে সেগুলি হচ্ছে:

(১) জৈব যৌগের পৃথকীকরণ ও বিশোধন,

(২) জানা যৌগের সাথে অন্য কোন যৌগের তুলনা বা শনাক্তকরণ, 

(৩) কোন নমুনায় (sample) একটি বিশেষ কোন যৌগের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি নির্ণয়,

(৪) যে কোন রাসায়নিক বিক্রিয়া মনিটরিং বা পরীক্ষণ,

(৫) শিল্পে বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর গুণগত মান নির্ণয়,

(৬) কোন নমুনায় উপাদানসমূহের পরিমাণ নির্ণয়,

(৭) পরিবেশ দূষণ প্রক্রিয়ায় দূষণ বস্তু শনাক্তকরণ, 

(৮) কোন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্ভূত সমাণুসমূহের উপস্থিতি বা অনুপাত নির্ণয়, 

(৯) সমগোত্রীয় জৈব যৌগের সদস্যদের পৃথকীকরণ ইত্যাদি।

ক্রোমাটোগ্রাফি একটি পৃথকীকরণ পদ্ধতি। তাই এর মাধ্যমে উপাদানের মিশ্রণ তৈরী করা যায় না।













Post a Comment

0 Comments